বাচ্চা কোথাও স্কেটিং দেখে এসে বায়না ধরেছে। আপনি ভাবছেন শখটা কদিন টিকবে, আর টিকলেও কীভাবে শুরু করাবেন। বগুড়ায় অভিভাবকেরা সবচেয়ে বেশি এই জায়গাটাতেই আটকান। নিচে প্রথম দিন থেকে প্রথম মাস পর্যন্ত কী হয়, সেটা গুছিয়ে লিখলাম।
আগে স্কেট কিনবেন না
এই ভুলটা অনেকে করেন। বাচ্চা আগ্রহ দেখাল, পরদিনই দোকান থেকে এক জোড়া স্কেট কিনে আনা হলো। দুই সপ্তাহ পর সেটা বারান্দায় পড়ে থাকে।
দুটো কারণে অপেক্ষা করা ভালো। এক, বাচ্চা সত্যিই স্কেটিং পছন্দ করছে নাকি বন্ধুকে দেখে বলছে, সেটা কয়েকটা ক্লাসেই বোঝা যায়। দুই, কোন ধরনের স্কেট তার পায়ে বসবে সেটাও তখন পরিষ্কার হয়। প্রথম কয়েকটা ক্লাসে আমরা গিয়ার দিয়ে সাহায্য করি, তাই শুরুতে কিছু কিনতে হয় না।
প্রথম দিন স্কেটিং শেখানো হয় না
শুনতে অদ্ভুত লাগে, কিন্তু প্রথম ক্লাসে আমরা শেখাই কীভাবে পড়তে হয়। হাঁটু ভেঙে, শরীর নিচু করে, হাত সামনে না দিয়ে। কারণ যে বাচ্চা জানে পড়ে গেলে লাগবে না, সে সামনে এগোতে ভয় পায় না। আর যে ভয় পায় না, সে দ্রুত শেখে।
প্রথম দিনের বাকিটা মোটামুটি এরকম যায়:
- হেলমেট, হাঁটুর প্যাড, কনুইয়ের প্যাড পরানো আর মাপ ঠিক আছে কিনা দেখা
- স্কেট পরে ঘাসের ওপর দাঁড়ানো, ভারসাম্য নেওয়া
- বসে পড়া আর নিজে নিজে উঠে দাঁড়ানো
- শক্ত মাটিতে কয়েক পা হাঁটা
গ্লাইড করা প্রথম দিনের লক্ষ্য না। ওটা সাধারণত দ্বিতীয় সপ্তাহে আসে।
এক মাসে কতদূর যায়
প্রতিটা বাচ্চা আলাদা, তাই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে চার সপ্তাহ নিয়মিত এলে বেশিরভাগই নিজে দাঁড়াতে পারে, কয়েক মিটার গ্লাইড করতে পারে আর নিয়ন্ত্রণ করে থামতে পারে।
যারা শুরুতে বেশি ভয় পায়, তাদের দুই-তিন সপ্তাহ বেশি লাগে। এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আমাদের অভিজ্ঞতায় এই বাচ্চাগুলোই পরে সবচেয়ে সাবধানী আর গুছিয়ে স্কেট করে।
আপনি একটা কাজ করলেই হবে
তুলনা করবেন না। “ওই ছেলেটা তো পারছে, তুমি পারছ না কেন” — এই একটা কথায় অনেক বাচ্চার আগ্রহ শেষ হয়ে গেছে, আমরা দেখেছি। বাড়ি ফেরার পথে বরং জিজ্ঞেস করুন আজ নতুন কী শিখল। বাকিটা আমাদের কাজ।
ব্যাচের সময়সূচি বা ভর্তির খোঁজ নিতে এখানে যোগাযোগ করুন। চাইলে একদিন এসে ক্লাসটা দেখেও যেতে পারেন।